ফলে অন্যান্য কর্মদিবসের মতো এদিনও সব ধরনের লেনদেন করতে পারবেন গ্রাহকরা। এছাড়া শেয়ারবাজারেও স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে। লেনদেন হবে অন্যান্য কর্মদিবসের মতোই সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। একইভাবে আগামী শনিবারও (২৪ মে) খোলা থাকবে এসব প্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহেই পৃথকভাবে এমন নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, সরকারি নির্দেশে ঈদুল আজহায় টানা ১০ দিন ছুটি কার্যকর করতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের গত ৬ মের বৈঠকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১০ দিন ছুটির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছুটি শুরু হবে ৫ জুন থেকে, শেষ হবে ১৪ জুন। উপদেষ্টা পরিষদে একই সভায় এ ছুটি সমন্বয় করতে ছুটি শুরুর আগে ১৭ ও ২৪ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার সব সরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এদিকে টানা ১০ দিন লম্বা ছুটি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শিল্পোদ্যোক্তাদের। তারা বলছেন, ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় উৎপাদন ও বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়বে। ১০ দিন ছুটি মানেই কার্যত মাসের অর্ধেক সময় উৎপাদন বন্ধ থাকবে। বছর শেষে যা বার্ষিক জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। লম্বা ছুটির বিরূপ প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগেও। কেননা ছুটি লম্বা হলে অর্থনীতির বড় অংশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ ধরনের ঘটনা জাতীয় রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দেশের আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে ঈদের ছুটিতেও ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চলবে চট্টগ্রাম বন্দরে। শুধু ঈদের দিন ৮ ঘণ্টা পরিচালন সেবা বন্ধ থাকবে। তবে বন্দর খোলা থাকলেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কার্যত ডেলিভারি বা শুল্কায়ন সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা। তারা বলছেন, ছুটির সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম গুটিয়ে যাওয়ায় এলসি কার্যক্রম থেমে যায়। কিছু ক্ষেত্রে খোলা থাকলেও এত সীমিত আকারে হয় যে তা কাজে আসে না। এজন্য ছুটি দীর্ঘ হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও ছন্দপতন ঘটে। সব মিলিয়ে দীর্ঘ সরকারি ছুটিতে যে অচলাবস্থা তৈরি হবে, তা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা।